সন্তানকে মোবাইল নয়, পৃথিবীটা দেখান

একটা ছুটির দিন, একটু সময় আর একটা পরিবার

শুক্রবার বিকেল।
বাবা অফিসের ক্লান্তি নিয়ে সোফায় বসে মোবাইলটা হাতে নিলেন। মা রান্নাঘরের কাজ শেষ করে একটু বিশ্রাম নিতে গেলেন। ছেলে মোবাইলে গেম খেলছে। মেয়ে টিকটক দেখছে। একই ঘরে চারজন মানুষ। অথচ প্রত্যেকে যেন চারটা আলাদা পৃথিবীতে।

বাবা মাঝেমধ্যে মোবাইলের পর্দা থেকে চোখ তুলে সন্তানদের দেখেন। মনে মনে ভাবেন, কোথায় যেন সময়গুলো চলে যাচ্ছে! কখন যে ছেলে এত বড় হয়ে গেল, বুঝতেই পারেননি। মেয়েটাও এখন সারাক্ষণ নিজের জগতে ব্যস্ত।
বাবার ইচ্ছা করে পরিবারকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে যেতে। কিন্তু মাসের শেষের হিসাবটা মনে পড়তেই সেই ইচ্ছেটা আবার চাপা পড়ে যায়। ঘুরতে গেলে গাড়ি লাগবে, ভালো হোটেল লাগবে, খাওয়ার খরচ আছে, আরও কত কী!

তারপর নিজের মনকেই বোঝান, “এখন সম্ভব না। ক্রেডিট কার্ডের বিল শোধ করে, আরেকটু ভালো আয় হলে সবাইকে নিয়ে ঘুরতে যাব।”
এভাবেই মাস যায়,
বছর যায়,
কিন্তু সেই “আরেকটু ভালো সময়টা” আর আসে না।

অথচ গল্পটা অন্য রকম হতে পারত।

পরের শুক্রবার বিকেলে বাবা যদি সন্তান দুটিকে বলতেন, “চলো, আজ আমরা একটু ঘুরে আসি।”
ছেলেমেয়েরা হয়তো অবাক হয়ে তাকাত। তারপর সবাই মিলে মেট্রোরেলে উঠত। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে শহরটা দেখত। সন্তানরা হয়তো একশটা প্রশ্ন করত।
“বাবা, এই জায়গাটার নাম কী?”

“এই বিল্ডিংটা এত পুরোনো কেন?” “ঢাকায় আগে কেমন ছিল?”
কোনো এক বিকেলে তারা আহসান মঞ্জিল দেখতে যেতে পারত। অন্যদিন বলধা গার্ডেন। কখনো রমনা পার্ক। কখনো জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান। কখনো পুরান ঢাকার কোনো পুরোনো ভবন কিংবা জাদুঘর। খরচ হয়তো খুব বেশি হতো না।
কিন্তু তৈরি হতো এমন কিছু স্মৃতি, যার দাম কোনো টাকা দিয়ে মাপা যায় না।

বাবা হয়তো একটা পুরোনো ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে সন্তানকে বলতেন, “জানো, এই জায়গাটার সঙ্গে আমাদের দেশের একটা গল্প জড়িয়ে আছে…”
সন্তান হয়তো মন দিয়ে শুনত। হয়তো সবকিছু মনে রাখত না। কিন্তু বাবার পাশে দাঁড়িয়ে শোনা সেই গল্পটা তার মনে থেকে যেত।
আর কয়েক বছর পর, কোনো একদিন সেই সন্তান যখন নিজের সন্তানকে নিয়ে সেখানে আসবে, হয়তো তার মনে পড়বে,“আমাকে একদিন বাবা এখানে নিয়ে এসেছিলেন।”

এই স্মৃতিটাই তো আসল ভ্রমণ। আমরা অনেক সময় ভাবি, সন্তানকে ভালো রাখতে হলে অনেক টাকা দরকার। দামি খেলনা দরকার। বিদেশ ভ্রমণ দরকার। বড় কোনো রিসোর্টে নিয়ে যেতে হবে। আসলে সবসময় তা নয়। সন্তানের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন অনেক সময় আপনাকে।

আপনার সময়। আপনার গল্প। আপনার হাত ধরে হাঁটার কয়েকটা ঘণ্টা।
মোবাইলের পর্দায় সে বাংলাদেশের ছবি দেখতে পারে। কিন্তু আপনি তাকে নিয়ে যখন কোনো ঐতিহাসিক স্থাপনার সামনে দাঁড়াবেন, তখন সেই জায়গাটার সঙ্গে তার একটা ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি হবে। দেশকে ভালোবাসার গল্পও সেখান থেকেই শুরু হতে পারে। শুধু বইয়ে বাংলাদেশ পড়লেই বাংলাদেশকে চেনা হয় না।


বাংলাদেশকে চিনতে হলে তার রাস্তায় হাঁটতে হয়। পুরোনো শহর দেখতে হয়। নদীর পাড়ে বসতে হয়। পাহাড় দেখতে হয়। গ্রাম দেখতে হয়। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থান গুলো দেখতে হয়। পুরোনো স্থাপনার গল্প জানতে হয়।

ঢাকা তো শুধু একটি উদাহরণ। এই ছোট্ট দেশটার প্রতিটি জেলা, প্রতিটি শহর, প্রতিটি জনপদের কোথাও না কোথাও গল্প গুলো লুকিয়ে আছে।

প্রশ্ন হলো, আপনি কয়টা গল্প জানেন? কিংবা জানার চেষ্টা করছেন?

আর আপনার সন্তানকে কয়টা গল্প জানার সুযোগ দিয়েছেন? সব দায়িত্ব কি স্কুলের শিক্ষকদের?
সন্তানকে ইতিহাস শেখানোর দায়িত্ব শুধু বইয়ের নয়। দেশকে চেনানোর দায়িত্ব শুধু পাঠ্যবইয়ের নয়। আর পরিবারকে কাছাকাছি রাখার দায়িত্ব কোনো মোবাইল অ্যাপেরও নয়।
সন্তানকে সময় দিতে হয়। হয়তো আপনি সপ্তাহে একদিন পারবেন না।

তাহলে মাসে একদিন। মাসে একদিনও যদি না পারেন, মাঝে মাঝে একটা বিকেল। খুব বেশি কিছু দরকার নেই।

একটা বাস।
একটা মেট্রোরেল।
ত্রিশ টাকার বাদাম,
এক বোতল পানি।
আর চারজন মানুষের গল্প করার ইচ্ছা।

বিশ্বাস করুন, আপনার সন্তান হয়তো সেই দিনের খরচ মনে রাখবে না। কিন্তু মনে রাখবে, “বাবা আমাকে নিয়ে একদিন সেখানে গিয়েছিল।”

শৈশব খুব দ্রুত চলে যায়।
আজ যে সন্তান আপনার হাত ধরে হাঁটতে চায়, কাল হয়তো তার নিজের ব্যস্ততা হবে। আজ যে আপনার সঙ্গে ঘুরতে যেতে চায়, কাল হয়তো তার বন্ধু, পড়াশোনা, কাজ আর নিজের পৃথিবী হয়ে যাবে। তখন আপনি হয়তো সময় দিতে চাইবেন। কিন্তু সময়টা আর আগের মতো থাকবে না।

তাই সব ছুটির দিন টাকা উপার্জনের জন্য রেখে দেবেন না। কিছু দিন সন্তানের জন্য রাখুন। তাকে শুধু মোবাইল দেবেন না। তাকে পৃথিবীটা দেখান। তাকে শুধু পড়াশোনা শেখাবেন না। তাকে নিজের দেশটাকে চিনতে শেখান। আর সবচেয়ে বেশি, তাকে শুধু ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করবেন না, তার বর্তমানটাকেও সুন্দর করে তুলুন।

কারণ একদিন আপনার সন্তান বড় হয়ে যাবে। তখন আপনার সবচেয়ে বড় আফসোস যেন এটা না হয়, “টাকা তো অনেক কিছুই আয় করেছিলাম, কিন্তু সন্তানের ছোটবেলাটা আর ফিরে পেলাম না।

আমরা কী করি?

আমরা শুধু আপনার ভ্রমণের আয়োজন করতে চাই না। আপনার পরিবারের গল্পের সফরসঙ্গী হয়ে পাশে থাকতে চাই। আপনি আর আপনার পরিবার কোথায় যাবেন, কীভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন কিংবা কী দেখবেন, তার চেয়েও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আপনারা কী ধরনের সময় একসঙ্গে কাটাতে চান।

আমরা চাই, আপনার পরিবারের প্রতিটি ভ্রমণ হোক একটু অন্যরকম। এমন একটি ভ্রমণ, যেটা শুধু কয়েকটি ছবি তুলে ফিরে আসার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং ফিরে এসে মনে হবে, “এই সময়টা আমরা সত্যিই একসঙ্গে কাটিয়েছি।”

তাই আপনার প্রয়োজন, পছন্দ, পরিবারের সদস্যদের বয়স, আগ্রহ এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্য না জেনে আমরা কোনো ট্যুর প্ল্যান তৈরি করি না। আপনি আমাদের সঙ্গে কথা বলুন। প্রশ্ন করুন। গল্প করুন। আপনার পরিকল্পনাটা আমাদের জানান। তারপর আপনার পরিবারের জন্য উপযোগী করে আমরা ভ্রমণ পরিকল্পনা সাজাতে চেষ্টা করব। আমাদের গাইডরাও শুধু পথ দেখানোর জন্য নয়। তারা পেশাদারভাবে প্রশিক্ষিত এবং স্থানীয় জায়গা, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের গল্প সম্পর্কে জানেন। ফলে আপনার সন্তানরা ভ্রমণে গিয়ে শুধু জায়গা দেখবে না, প্রশ্ন করার সুযোগ পাবে, গল্প শুনবে, জানবে এবং নিজের দেশকে নতুন করে আবিষ্কার করবে।
পাহাড়ের কোনো পথ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে হয়তো সে শুনবে সেই পথের গল্প। কোনো পুরোনো স্থাপনার সামনে দাঁড়িয়ে জানবে তার ইতিহাস। কোনো স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে বুঝবে আমাদের দেশের বৈচিত্র্য কতটা গভীর।
ভ্রমণ তখন আর শুধু আনন্দ থাকে না। ভ্রমণ হয়ে ওঠে শেখার একটি সুন্দর উপায়।

আপনি কোনো ভ্রমণ পরিকল্পনা করার আগে আমাদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। আপনার সহযোগিতার জন্য আমরা থাকি প্রতিদিন রাত ১১টা পর্যন্ত 01817722572 এই নাম্বারে। আর কোনো প্রশ্ন থাকলে যেকোনো সময় আমাদের নম্বরে মেসেজ করে পাঠিয়ে দিতে পারেন। আমরা চেষ্টা করব ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে।

আমাদের কাছে ভ্রমণ মানে শুধু গন্তব্যে পৌঁছানো নয়।
ভ্রমণ মানে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো।
ভ্রমণ মানে গল্প করা।
ভ্রমণ মানে সন্তানকে কিছু নতুন জানার সুযোগ দেওয়া।
ভ্রমণ মানে নিজের দেশটাকে একটু বেশি করে চেনা।

তাই ভ্রমণ হোক শুধু আনন্দের জন্য নয়,
কিছু জানার জন্য, কিছু শেখার জন্য, আর পরিবারের সঙ্গে কিছু সুন্দর স্মৃতি তৈরি করার জন্য।

আপনার পরিবারের গল্পের সফরসঙ্গী হয়ে আমরা পাশে থাকতে চাই।

 

Proceed Booking